চার দিনের জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়।
সফর ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও শিল্প খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের পরিসর বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।
সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর
জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান সরকারের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক বৈঠক, সমঝোতা স্মারক কিংবা বিনিয়োগের আশ্বাসই শেষ কথা নয়। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মধ্য দিয়েই সফরের সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে।
বিশেষ করে জাপানি বিনিয়োগ কত দ্রুত বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসে কি না এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ কতটা বাড়ে—এসব বিষয় আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


















