সোমবার , ২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭০ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজে ফিরতে পারেননি সাড়ে ১৬ লাখ শ্রমিক

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
নভেম্বর ২, ২০২৬ ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশের প্রধান তিন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী এলাকার ৬৭০টি পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় এসব কারখানার ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিককে কর্মস্থল থেকে ফিরে যেতে হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে চালু ছিল ১ হাজার ৪৬৪টি। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ ছিল ৬৭০টি কারখানা।

সংস্থাটির তথ্য বলছে, শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এ দুই এলাকায় ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ জন শ্রমিক।

একই পরিস্থিতি দেখা গেছে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলেও। এসব এলাকায় ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে কাজে যোগ দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক।

রাজধানীর মিরপুরে ৩২০টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।

তবে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। এ দুই অঞ্চলের যথাক্রমে ১৯৭টি ও ৩১৪টি পোশাক কারখানার সবকটিই স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল।

এর আগে রোববারও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও গাজীপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ও সহিংস পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭টিসহ সারা দেশে মোট ৫২৯টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, সহিংসতায় অংশ নেওয়া ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত কারখানাগুলো চালু রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ - শিক্ষা