২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই ফেল করেছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সার্বিক ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। অন্যদিকে, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। অর্থাৎ, এই দুই বিষয়েই ফেল করেছেন মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন পরীক্ষার্থী।
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২১ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কোনো বছর পাসের হার এতটা নিচে নামেনি।
এদিকে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন করে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

















