দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির নতুন রেকর্ড। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ জনে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ১১ অক্টোবর এক দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এতদিন সেটিই ছিল চলতি বছরের সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ২২৭ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৬০৫ জন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ২৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২২৪ জন, চট্টগ্রামে ২১৭ জন, বরিশালে ২১১ জন, ময়মনসিংহে ১৫৫ জন, রংপুরে ৮২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও জুন থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন ডেঙ্গুতে মারা যান। চলতি অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনেই মারা গেছেন ১৩৯ জন।
অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে নারীদের হার বেশি, প্রায় ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।
ক্রমবর্ধমান রোগী ভর্তির সংখ্যা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।


















