সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ইসলামী বক্তা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুরের মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং তাঁদের পেটানোর কথা বলেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আব্বাসীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া একজন যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলেও সাংবাদিকেরা ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাংবাদিকদের ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র সঙ্গে জড়িত এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি পেটানোর হুমকি ও উসকানির অভিযোগও গুরুতর। এ কারণে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সাংবাদিকদের মানহানি, হামলার হুমকি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

















