বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরার ফাহাদের পরিবারের সাক্ষাৎ, দ্রুত বিচারসহ নানা দাবি

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৪:৪১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তার ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিও জানান। তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং সেতুটির নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সহযোগিতা চান তার বাবা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাতে আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তার বাবা। তিনি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, আর কোনো মায়ের বুক যেন আবরারের মতো খালি না হয়। দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ সময় আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি হল নির্মাণ এবং পাঠ্যবইয়ে আবরারের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

আবরার ফাইয়াজ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আবরার ফাহাদের মতো যারা নিহত হয়েছেন, তাদেরও একটি তালিকা করার দাবি জানান তিনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে আবরারের পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, দ্রুত বিচার সম্পন্ন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, বুয়েটে আবরারের নামে হল নির্মাণ এবং তার স্মৃতি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন দাবি তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।

সর্বশেষ - শিক্ষা