ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল। বুধবার সকাল থেকে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারের হেমায়েতপুর ও রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোর্ডবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় আশপাশের এলাকাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক বলেন, শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলেও কিছু দুষ্কৃতীকারী সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জেও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন পোশাকশ্রমিকরা। বুধবার সকালে কাঠেরপুল এলাকায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের দাবি, বেতন বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত তাঁরা সড়ক ছাড়বেন না। অন্যদিকে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
এ ছাড়া শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার সকালে পল্লবীতে বিভিন্ন কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এতে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকায় গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।


















